Subscribe Us

Advertisement

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম


প্রতিবেদন লেখার নিয়ম 

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম চলুন আজকে আমরা এই ব্লগে জেনে নেই কিভাবে প্রতিবেদন লিখতে হয় ।

খবরের কাগজ তো আমরা কমবেশ সবাই পড়ে থাকি। আর সেই খবরের কাগজ পড়ার সময় আমাদের চোখে কমবেশ অনেকগুলো প্রতিবেদনই ভেসে ওঠে। তবে শুধু সংবাদপত্রেই নয়, এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বোর্ড পরীক্ষা কিংবা স্কুল কলেজের পরীক্ষাগুলোতেও বাংলা পরীক্ষায় প্রতিবেদন লিখতে হয়। 
তাছাড়া বিভিন্ন চাকরি-বাকরি এবং সমাজের যে কোন সমস্যার সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষেরও নিকট প্রতিবেদন লিখতে হয়। আর আমাদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা প্রতিবেদন লেখার নিয়ম জানেনা। আমি একটু বলে রাখি যদি আপনি প্রতিবেদন লেখার নিয়ম সঠিকভাবে শিখে যান পন, তাহলে চাইলে আপনি নিজেও পত্রিকায় প্রতিবেদন লিখতে পারবেন। পাশাপাশি সমাজের যেকোনো অবকাঠামগত উন্নয়ন বা বিশেষ প্রয়োজনে প্রতিবেদন লিখতে পারবেন। 
তাই আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ আজকের আর্টিকেলে আমি প্রতিবেদন লেখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য দিব। তাহলে চলুন শুরু করা যাক। 


প্রতিবেদন কি? প্রতিবেদন কাকে বলে?

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানার আগে আমাদের আগে জানতে হবে প্রতিবেদন কি ও প্রতিবেদন কাকে বলে?  
তাই প্রতিবেদন লেখার নিয়ম জানার আগে বলে দেই প্রতিবেদন কি? কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য অনুসন্ধান করে কোন বিবরনী লেখাকেই প্রতিবেদন বলে। অর্থাৎ, কোন ঘটে যাওয়া ঘটনা, তথ্য বা বক্তব্য সম্পর্কে সুচিন্তিত ভাবে বক্তব্য প্রদানকেই প্রতিবেদন বলা হয়।
যিনি প্রতিবেদন রচনা করেন তাকে বলা প্রতিবেদক। কোন বিষয়ে যাবতীয় সকল তথ্য, সিদ্ধান্ত, ফলাফল ও সকল খুঁটিনাটি বিষয়গুলো অনুসন্ধান বা যাচাই বাছাই করে তারপর একটি সুন্দর বিবরণী তৈরি করা এবং তা কোন ব্যক্তিবর্গ,  প্রতিষ্ঠান বা কোন একটি কতৃপক্ষের নিকট বিবেচনার জন্য পেশ করা।


প্রতিবেদন কত প্রকার ও কি কি 

সাধারণত প্রতিবেদন লেখার নিয়ম এ অনেক ধরনের প্রতিবেদনই লিখা হয়ে থাকে। তবে আমি আজকে প্রধান যে কয়টি প্রতিবেদন আছে সেগুলো সম্পর্কে আপনাদের জানাবো। 

  • সংবাদ প্রতিবেদন

সাধারণত সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য যে প্রতিবেদন লিখা হয় তাকে সংবাদ প্রতিবেদন বলে। আর সংবাদপত্রের জন্য বিদ্যমান প্রতিবেদক বা নিজস্ব সংবাদদাতা এই প্রতিবেদনগুলো লিখে থাকেন।

  • প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন 

যেকোনো একটি ঘটনার পুরোপুরি তথ্য দিয়ে এই প্রতিবেদন টি লিখা হয়। এবং এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদন আকারে কিন্তু বেশ বড়ই হয়।   

  • অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন 

সাধারণত যেকোনো কোন অনুষ্ঠানের ঘোষণা, কিংবা কোন প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রতিবেদনগুলো লিখা হয়।

  • দাপ্তরিক প্রতিবেদন

কোন প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় সমূহ যাচাই-বাছাই করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যে প্রতিবেদন লেখা হয় তাকে দাপ্তরিক প্রতিবেদন বলে। 

  • গবেষণামূলক প্রতিবেদন 

সাধারণত যেকোন বিষয় অথবা কোন একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই ধরনের প্রতিবেদন লিখা হয়। কোন সংগঠিত ঘটনার কারণে পরবর্তীকালে সেই কি কি ধরনের সমস্যা দেখা দিবে এবং এর প্রতিকার সম্পর্কেও এই ধরনের প্রতিবেদনে লিখা হয়। 

উপরোক্ত প্রতিবেদন গুলো ছাড়াও আরো বেশ কয়েক ধরনের প্রতিবেদন রয়েছে। 


প্রতিবেদনের বৈশিষ্ট্য কি কি? 

পৃথিবীতে প্রত্যেকটি জিনিসের মত প্রতিবেদনেরও নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর সেই নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুসরণ না করে প্রতিবেদন লিখলে তা কিন্তু একেবারেই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। প্রতিবেদনের বৈশিষ্ট্যকেই আমরা প্রতিবেদন লেখার নিয়ম বলে উল্লেখ করতে পারি। নিম্নে আমি প্রতিবেদনের বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করছিঃ- 

  • নির্দিষ্ট কাঠামো থাকতে হবে

যেকোনো প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট কাঠামো থাকতে হবে। এবং সেই কাঠামো অনুসরণ করেই প্রতিবেদন লিখতে হবে। আর আপনি যদি সঠিক কাঠামো অনুসরণ না করে প্রতিবেদন লিখেন তাহলে সে কি কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রতিবেদনে অবশ্যই একটি শিরোনাম, প্রাপকের নাম-ঠিকানা, আলোচ্যবিষয়ের সূচিপত্র, বিষয়বস্তু, তথ্যপঞ্জি, স্বাক্ষর ও তারিখ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। 

  • অবশ্যই সঠিক তথ্য থাকতে হবে 

প্রতিবেদন মানেই হলো যেকোনো একটি সত্য ঘটনাকে প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরা। তাই প্রতিবেদন লিখতে গেলে অবশ্যই সেখানে নির্ভুল ও সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে। 

  • স্পষ্টতা থাকতে হবে 

যেকোনো ধরনের প্রতিবেদন রচনার ক্ষেত্রে অবশ্যই স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরতে হবে। প্রতিবেদন লেখার নিয়ম এর মধ্যে অবশ্যই প্রতিবেদনে বক্তব্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট কথা থাকতে হবে। এছাড়াও প্রতিবেদন লেখার নিয়ম বা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে প্রতিবেদনে নির্ভুল বানান থাকতে হবে। 

  • সংক্ষিপ্ততা থাকতে হবে 

প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই অল্প শব্দে বেশি তথ্য তুলে ধরতে হবে। 

  • সুন্দর উপস্থাপনা থাকতে হবে 

প্রতিবেদনটি অবশ্যই সুন্দর, সহজবোধ্য ও সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে। 

  • সুপারিশ দেওয়া 

প্রতিবেদনের উপসংহারে অবশ্যই সুপারিশ সংযোজন করতে হবে। অর্থাৎ যে কোন একটি সুপারিশ দিতে হবে। 


প্রতিবেদনের গঠন প্রণালী 

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম কেই আমরা প্রতিবেদনের গঠনপ্রণালী হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। নিম্নে প্রতিবেদন লেখার সঠিক গঠন নীতিগুলো আলোচনা করা হলোঃ- 

  • শিরোনাম

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম হলো প্রতিবেদনের প্রথমে অর্থাৎ একেবারে উপরেই প্রতিবেদনের শিরোনাম লিখতে করতে হবে। আর সেই শিরোনামটি হবে অল্প কথায় বা অল্প শব্দের। চেষ্টা করবেন যথাসম্ভব ছোট বাক্যে বেশ সুন্দর ও আকর্ষণীয় শিরোনাম লিখতে।

  • সারাংশ

শিরোনাম লিখা শেষ হলে একটি ছোট অংশের মধ্যে প্রতিবেদনের সারাংশ লিখতে হবে। আর সেই সারাংশটি পড়েই একজন পাঠক প্রতিবেদনটি সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে। 

  • ভূমিকা 

সারাংশ লেখা শেষ হলে ভূমিকা দিয়ে মূল প্রতিবেদন শুরু করতে হবে। এই অংশে প্রতিবেদনের যে মূল  বিষয়বস্তু তার সাথে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।

  • বিষয়বস্তু 

এখানে প্রতিবেদনের যাবতীয় সকল তথ্য, বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা হবে। প্রাপ্ত সকল তথ্যের আলোকেই বিষয়বস্তু রচিত হবে।

  • প্রতিবেদকের নাম-ঠিকানা ও অন্যান্য বিষয়াদী 

এই পর্যায়ে প্রতিবেদকের যাবতীয় সকল তথ্য ও ছবি সংযুক্ত করতে হবে। যেই স্থান থেকে শুরু করে প্রতিবেদনটি লিখা হবে, সেই স্থানের কিংবা ঘটনা স্থলের নাম ও সময়ও উল্লেখ করতে হবে। আর সংবাদপত্রের জন্য লিখা প্রতিবেদনে প্রথমেই এই তথ্যগুলো উল্লেখ করতে হবে।
মূলত বলা চলে এগুলোই প্রতিবেদন লেখার গঠন প্রণালী বা প্রতিবেদন লেখার নিয়ম। আর প্রতিবেদন লেখার নিয়ম এর মধ্যে এই দিকনির্দেশনা গুলোই পরে। যেগুলো অনুসরণ করে আপনারা সহজেই একটি প্রতিবেদন লিখে ফেলতে পারবেন। 

যেকোনো প্রতিবেদন লেখার নিয়ম ও নমুনা 

নিচে আমি একটি প্রতিবেদন লেখার নিয়ম ও তার নমুনা দেখিয়ে দিচ্ছি। যেটি অনুসরণ করলে আপনারা নিজস্ব প্রতিবেদন লেখার নিয়ম,  ব্যক্তিগত প্রতিবেদন লেখার নিয়ম, প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন লেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে পারবেন। নমুনা:- 

  • প্রতিবেদনের প্রকৃতি

এটা কোন ধরনের প্রতিবেদন তা স্পষ্ট করে এই অংশে লিখতে হবে। ।

  • প্রতিবেদনের বিষয়

যে বিষয়ে আপনি প্রতিবেদন লিখতে চাচ্ছেন সেই বিষয়টি এখানে পরিস্কার ভাবে লিখতে হবে। 

  • প্রতিবেদন তৈরীর সময়-

আপনি যে সময়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরী করছেন সেই সময়টিকে পরিস্কার করে উল্লেখ রাখতে হবে।

  • প্রতিবেদনের তারিখ

এই অংশে আপনি প্রতিবেদনের তারিখ দিবেন। 

  • প্রতিবেদনের স্থান

আপনি কোন জায়গার জন্য প্রতিবেদন করছেন বা কোন স্থানে এই ঘটনাটি ঘটেছে তা সবাই যেন বুঝতে পারে তা লিখবেন।

  • ঘটনার বিবরণ

এইখানে আপনি আপনার ঘটনার যে বিবরণ তা সুন্দর করে অল্প কথায় তুলে ধরবেন হবে। এবং এই প্রতিবেদন লেখার সময় যে ঘটনাটি ঘটেছে হুবহু সেটাই বর্ণনা করবেন। 

  • প্রতিবেদনের সময়কাল

এখানে কোন সময় থেকে কোন সময়ের জন্য প্রতিবেদনটি তৈরী করা হয়েছে তা বর্ণনা করবেন। 

  • প্রতিবেদকের স্বাক্ষর:

সর্বশেষ যে প্রতিবেদনটি তৈরী করেছে তার স্বাক্ষর এখানে দিতে হবে।তদন্ত প্রতিবেদন লেখার নিয়ম প্রতিবেদন লেখার নিয়ম ও উদাহরণ (নমুনা) 


আমি নিচে বুঝার সুবিধার্থে তদন্ত প্রতিবেদন লেখার একটি ফরমেট উপস্থাপন করছি। 


তারিখঃ এখানে প্রতিবেদনের তারিখ হবে…............................................................… 
প্রাপকঃ এখানে প্রাপকের পদবী হবে……....................................................................
প্রেরকঃ  এখানে যে লিখবে তার নাম হবে…..........................................................….
বিষয়ঃ এখানে তদন্ত প্রতিদিনের বিষয় দিতে হবে….........................................…….


ঘটনাটির সঠিক বিবরণঃ এই স্থানে ঘটনার সঠিক বিবরণ গুলো উল্লেখ করতে হবে ……………………..........................…………………………........................................……..…………………………………..........................….


দুর্ঘটনার কারণসমূহঃ কি কারণে দুর্ঘটনা হলো সে কারণগুলো উল্লেখ করতে হবে.……….....…......….……
১)………........................................................................................................................................………….…........................
২) ……….........................................................................................................................................………..……..................…
৩)……………................................................................................................................................……............................……
(অবশ্যই উপরের নিয়ম অনুযায়ী পয়েন্ট আকারে লিখতে হবে)


সুপারিশ প্রদানঃ এ অংশে কয়েকজনের সুপারিশ প্রদান করতে হবে………………….......................……..........
১)……………............................................................................................................................................…...........……......….
২)………………........................................................................................................................................................…....……..
৩) ……….......................................................................................................................................…….....……...............……..


স্বাক্ষর ও তারিখঃ এখানে প্রেরকের স্বাক্ষর ও তারিখ দিতে হবে ……….............................................……...

 
তদন্ত কমিটির প্রধানের নামঃ যিনি তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন তার নাম উল্লেখ করতে হবে………….................................................................................................................................................................….........


পদবীঃ এখানে তদন্ত কমিটি প্রধানের পদবী দিতে হবে …………….......................................................


উক্ত নমুনা অনুসরণ করলেই একটি তদন্ত প্রতিবেদন সঠিকভাবে লেখা সম্ভব। 

শেষ কথা 

আজকের আর্টিকেলে আমি চেষ্টা করেছি প্রতিবেদন লেখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরার। আমি আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনার উপকৃত হয়েছেন। এবং জেনে গেছেন প্রতিবেদন লেখার নিয়ম। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ